শিশুদের খাওয়ার অরুচি (poor appetite)

শিশুদের খাওয়ার অরুচি (poor appetite) পেডিয়াট্রিক প্র্যাকটিসে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক বিকাশের ভ্যারিয়েশন, রোগ নয়। বিশেষ করে ১–৫ বছর বয়সে বৃদ্ধি ধীরগতির হওয়ায় খাবারের চাহিদা কমে যায়, যা অনেক সময় অভিভাবকদের অযথা উদ্বিগ্ন করে।
খাওয়ার অরুচির কারণ বহুমাত্রিক। শারীরবৃত্তীয় কারণ হিসেবে বয়সভিত্তিক ক্ষুধার তারতম্য, অতিরিক্ত দুধ বা জাঙ্ক ফুড গ্রহণ উল্লেখযোগ্য। আচরণগত কারণ যেমন জোর করে খাওয়ানো, স্ক্রিনের সামনে খাওয়ানো বা অনিয়মিত মিল টাইম শিশুর ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করে। এছাড়া মেডিক্যাল কারণ—অ্যানিমিয়া, ক্রনিক সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, কৃমি বা ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার—বিবেচনায় রাখতে হয়, বিশেষত যদি ওজন না বাড়ে বা অন্যান্য উপসর্গ থাকে।
মূল্যায়নের সময় শিশুর গ্রোথ চার্ট, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক খাওয়ানোর প্যাটার্ন এবং সাইকোসোশ্যাল পরিবেশ বিশ্লেষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ক্ষুধা কম মানেই ভিটামিন বা ওষুধ প্রয়োজন—এ ধারণা বৈজ্ঞানিক নয়, যদি না পুষ্টিহীনতা বা নির্দিষ্ট ঘাটতি প্রমাণিত হয়।
ব্যবস্থাপনার মূলনীতি হলো behavioral feeding approach। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ছোট পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিবার একসাথে বসে খাওয়া, জোর না করা এবং নতুন খাবার বারবার অফার করা কার্যকর কৌশল। প্রয়োজন হলে পুষ্টি পরামর্শ ও অভিভাবক কাউন্সেলিং সবচেয়ে বেশি উপকার দেয়।
যদি খাওয়ার অরুচির সাথে ওজন কমা, বিকাশে বিলম্ব, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা বমি থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি। যথাযথ আশ্বাস, সঠিক খাওয়ানোর কৌশল এবং কারণভিত্তিক চিকিৎসা দিলে অধিকাংশ শিশুর ক্ষুধা ও বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

Scroll to Top