শিশুদের খিচুনী (seizure)

শিশুদের খিচুনী (seizure) একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক সমস্যা, যা মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফলে ঘটে। জীবনের প্রথম বছরগুলোতে খিচুনীর হার তুলনামূলক বেশি, কারণ এ সময় মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুত হয় এবং উত্তেজনাশীলতা বেশি থাকে।
খিচুনীর ধরন বিভিন্ন হতে পারে। Generalized seizure-এ পুরো শরীর কাঁপা, জ্ঞান হারানো ও শক্ত হয়ে যাওয়া দেখা যায়। Focal seizure-এ শরীরের একটি অংশে কাঁপুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ হতে পারে। এছাড়া ছোট শিশুদের মধ্যে febrile seizure জ্বরের সাথে দেখা যায়, যা সাধারণত স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর জটিলতা কম হয়।
কারণ বয়সভেদে ভিন্ন। নবজাতকে জন্মকালীন অক্সিজেন স্বল্পতা, সংক্রমণ বা মেটাবলিক সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ; বড় শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, এপিলেপসি, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, আঘাত বা জেনেটিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোগ নির্ণয়ে বিস্তারিত ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী EEG ও নিউরোইমেজিং সহায়ক। প্রতিটি খিচুনী মানেই এপিলেপসি নয়—পুনরাবৃত্ত অপ্ররোচিত খিচুনী হলে তবেই এপিলেপসি নির্ণয় করা হয়।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য খিচুনী নিয়ন্ত্রণ ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা। খিচুনীর ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিসিজার ওষুধ নির্বাচন করা হয়। জ্বরজনিত খিচুনীতে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ প্রয়োজন হয় না, তবে অভিভাবককে প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা শেখানো জরুরি।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা, নিয়মিত ফলো-আপ এবং পরিবারের সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। তাই খিচুনী হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত মূল্যায়ন ও কারণভিত্তিক ব্যবস্থাপনাই সর্বোত্তম পদক্ষেপ।

Scroll to Top