শিশুদের অটিজম বা Autism Spectrum Disorder (ASD) একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থা, যা প্রধানত সামাজিক যোগাযোগে অসুবিধা এবং সীমিত ও পুনরাবৃত্ত আচরণ দ্বারা চিহ্নিত। লক্ষণ সাধারণত জীবনের প্রথম দুই-তিন বছরের মধ্যেই প্রকাশ পায়, যদিও তীব্রতা ও উপস্থাপন ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে—এ কারণেই একে “স্পেক্ট্রাম” বলা হয়।
মূল উপসর্গ দুইটি ডোমেইনে বিভক্ত। প্রথমত, সামাজিক যোগাযোগের ঘাটতি—চোখে চোখ না রাখা, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া, যৌথ মনোযোগ কম থাকা, ভাষা বিকাশে দেরি বা অস্বাভাবিকতা। দ্বিতীয়ত, সীমিত ও পুনরাবৃত্ত আচরণ—একই কাজ বারবার করা, রুটিনে অতিরিক্ত নির্ভরতা, নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ এবং সংবেদনশীলতার (sensory sensitivity) তারতম্য।
কারণ বহুমাত্রিক ও প্রধানত জেনেটিক; মস্তিষ্কের সংযোগ (neural connectivity) ও সিন্যাপটিক বিকাশের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভ্যাকসিনের সাথে অটিজমের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই—এটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রমাণ দ্বারা খণ্ডিত।
রোগ নির্ণয় সম্পূর্ণ ক্লিনিক্যাল, বিকাশগত ইতিহাস, পর্যবেক্ষণ এবং মানসম্মত স্ক্রিনিং টুলের ভিত্তিতে করা হয়। প্রাথমিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ early intervention ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।
চিকিৎসার মূল ভিত্তি ওষুধ নয়, বরং behavioral এবং developmental therapy—যেমন speech therapy, occupational therapy, applied behavior analysis (ABA) এবং প্যারেন্ট ট্রেনিং। সহ-অবস্থানের (ADHD, ঘুমের সমস্যা, খিচুনি, উদ্বেগ) ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়।
সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ, পরিবার-কেন্দ্রিক সহায়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই অটিজম কেয়ারের মূল ভিত্তি।
