শিশুদের কিডনীরোগ: নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম (Nephrotic Syndrome)

শিশুদের কিডনীরোগ: নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম (Nephrotic Syndrome) –
শিশুদের Nephrotic Syndrome একটি সাধারণ কিডনি রোগ, যেখানে গ্লোমেরুলার ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত প্রোটিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এর ফলে রক্তে অ্যালবুমিন কমে গিয়ে শরীরে পানি জমে ফোলাভাব (edema) দেখা দেয়। সাধারণত ২–৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে Minimal Change Disease দ্বারা সৃষ্ট।
প্রধান লক্ষণ হলো চোখের চারপাশে ফোলা, পা ও পেট ফোলা, প্রস্রাবে ফেনা হওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি। শিশু সাধারণত প্রথমে সুস্থ থাকলেও ধীরে ধীরে ফোলা বাড়তে থাকে। রক্তে প্রোটিন কমে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং কখনও রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
নির্ণয়ের জন্য প্রস্রাবে উচ্চমাত্রার প্রোটিন (proteinuria), রক্তে অ্যালবুমিন কম থাকা এবং উচ্চ কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। চিকিৎসায় প্রধান ওষুধ হলো স্টেরয়েড (যেমন prednisolone), যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো সাড়া দেয়। পাশাপাশি লবণ কম খাওয়া, পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্য এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ জরুরি।
রিল্যাপ্স সাধারণ হলেও অধিকাংশ শিশু বয়স বাড়ার সাথে সাথে সুস্থ হয়ে ওঠে। নিয়মিত ফলো-আপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুনরাবৃত্তি হলে চিকিৎসা সমন্বয় করতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল সাধারণত ভালো হয়।
শিশুদের কিডনীরোগ: নেফ্রাইটিস (Nephritis) –
শিশুদের Nephritis বা glomerulonephritis হলো কিডনির গ্লোমেরুলাসের প্রদাহজনিত রোগ, যা সাধারণত সংক্রমণ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার কারণে হয়। সবচেয়ে পরিচিত হলো post-streptococcal glomerulonephritis, যা গলা বা ত্বকের সংক্রমণের পর দেখা দেয়।
এর প্রধান লক্ষণ হলো প্রস্রাবে রক্ত (cola-colored urine), মুখ ও চোখ ফোলা, উচ্চ রক্তচাপ, কম প্রস্রাব এবং কখনও মাথাব্যথা বা দুর্বলতা। শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও হতে পারে পানি জমার কারণে।
নির্ণয়ে প্রস্রাব পরীক্ষা (hematuria, proteinuria), রক্তে ASO titer বৃদ্ধি, কম complement (C3) এবং কিডনি ফাংশন টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা মূলত সাপোর্টিভ—লবণ ও পানি নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে ডায়ুরেটিক ব্যবহার। সংক্রমণ থাকলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
অধিকাংশ শিশু কয়েক সপ্তাহ থেকে মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি ফেইলিউর হতে পারে। তাই ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ জরুরি।
প্রতিরোধে স্ট্রেপটোকক্কাল সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনায় ফলাফল সাধারণত ভালো হয়, তবে অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদী কিডনি ক্ষতি হতে পারে।

Scroll to Top